প্রশাসনিক অনুমোদন
সিন্ডিকেটের (৩০-১০-২০২২) কার্যবিবরণীর অংশ Dhaka University Nanotechnology Centre প্রতিষ্ঠা ও এর গঠনতন্ত্র অনুমোদন
সিদ্ধান্ত: একাডেমিক কাউন্সিলের (১২-১০-২০২২) সুপারিশ অনুযায়ী Dhaka University Nanotechnology Centre প্রতিষ্ঠা ও এর পরিশিষ্ট খ-এ বর্ণিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হলো ।
স্বারক নং রেজি:/প্রশা-৫/৪৪৬৪-৮২ তারিখ: ০৭/১১/২০২২
The Constitution of Dhaka University Nanotechnology Center (DUNC)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার-এর গঠনতন্ত্র
১. পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের যে সকল প্রযুক্তিসমূহ এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছে ন্যানোপ্রযুক্তি তাদের মধ্যে অন্যতম । বিজ্ঞানের সকল শাখায় এই প্রযুক্তির প্রভাব ও প্রতিপত্তি রয়েছে । ন্যানোপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে অভীষ্ট উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ ও ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও পরিকল্পনার আবশ্যকতা রয়েছে । এরূপ উদ্দীপনা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার' স্থাপনের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো । সময়োপযোগী এই উদ্যোগ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও অদূরে অবস্থিত পঞ্চম শিল্পবিপ্লবসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিকে মানব সেবায় নিয়ে আসার কৌশলের একটি অংশ হবে । এই সেন্টারের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিল্প বিকাশসহ নানাধর্মী সেবায় বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ করে দিবে । বিকাশমান বহুমুখী শিল্পকে লক্ষ্য করে এই সেন্টারের উদ্ভাবিত ন্যানোপ্রযুক্তি বিদ্যায়তন শিক্ষা (অ্যাকাডেমি-ইন্ডাস্ট্রি) সম্পর্ক জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতে নানাবিধ বাণিজ্যিক সুফল আনতে সহায়তা করবে । বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যারা ন্যানোপ্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা করেন তাঁরা এই সেন্টারের মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবেন । এই সেন্টার বাংলাদেশকে বিজ্ঞানের বিশ্বগ্রাম (গ্লোবাল ভিলেজ)-এর সাথে যেমনি সংযুক্ত করবে তেমনি বাংলাদেশে ন্যানোপ্রযুক্তির নেতৃত্ব প্রদানেও অগ্রগামী হবে ।
২. সংজ্ঞা
(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকলে, এই গঠণতন্ত্রে:
(ক) 'সরকার' বলতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে বুঝাবে ।
(খ) 'বিশ্ববিদ্যালয়' বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝাবে ।
(গ) 'সেন্টার' বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টারকে বুঝাবে ।
(ঘ) 'প্রতিষ্ঠান' বলতে যে কোনো বিধিবদ্ধ সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানকে বুঝাবে ।
৩. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বাংলাদেশে নানা ধরনের শিল্প ও বিভিন্ন সেবাখাতে উন্নত ও উপযুক্ত ন্যানোপ্রযুক্তি প্রয়োগ, অভিযোজন, সম্প্রসারণ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন ও জনকল্যাণ সাধন ।
৪. কার্যনির্বাহী পরিষদের গঠন ও কার্যপরিধি
(১) নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা সম্পন্ন ৯ (নয়) সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ থাকবে যার গঠন হবে নিম্নরূপ:
(ক) উপাচার্য (সভাপতি)
(খ) প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) (সদস্য)
(গ) ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ (সদস্য)
(ঘ) ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ (সদস্য)
(ঙ) ডিন, জীববিজ্ঞান অনুষদ (সদস্য)
(চ) ডিন, ফার্মেসি অনুষদ (সদস্য)
(ছ) ডিন, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ (সদস্য)
(জ) ডিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ (সদস্য)
(ঝ) পরিচালক, ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার (সদস্য-সচিব)
(২) উপাচার্যের সম্মতি ও অনুমোদনক্রমে সেন্টারের পরিচালক কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করবেন ।
(৩) পাঁচজন সদস্যের উপস্থিতি কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার কোরাম পূর্ণ করবে ।
(৪) কার্যনির্বাহী পরিষদ পরিচালনা পরিষদের পেশকৃত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ পরিমার্জন, পরিবর্তন ও অনুমোদন করবে ।
(৫) কার্যনিবাহী পরিষদ সেন্টারের লক্ষ্য নির্ধারণ, উদ্দেশ্য পূরণ ও যথোপযুক্ত রূপরেখা প্রণয়ন করবে ।
৫. পরিচালনা পরিষদের গঠন ও কার্যাবলী
(১)সেন্টারের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও কার্যকর করার জন্য ১১ (এগারো) সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা পরিষদ নিম্নরূপভাবে গঠিত হবে:
(ক) পরিচালক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভিত্তিক যে কোনো অনুষদ হতে উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত একজন শিক্ষক যিনি অধ্যাপক এবং ন্যানোপ্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষণায় নিযুক্ত । পরিচালক পরিচালনা পরিষদের সভা আহবান ও সভায় সভাপতিত্ব করবেন ।
(খ) সদস্য (৫ জন): অনুষদ কর্তৃক মনোনীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রতি অনুষদ হতে সহকারী অধ্যাপক বা তদূর্ধ্ব পদের একজন শিক্ষক ।
(গ) সদস্য (৩ জন): কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ শিল্প ও গবেষণা পরিষদ ও ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি হতে রিসার্চ অফিসার বা সমমান বা তদূর্ধ্ব পদের একজন গবেষক ।
(ঘ) সদস্য (২ জন): একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে সহকারী অধ্যাপক বা রিসার্চ অফিসার বা সমমান বা তদূর্ধ্ব পদের শিক্ষক বা গবেষক ।
(২) ছয়জন সদস্যের উপস্থিতি পরিচালনা পরিষদের সভার কোরাম পূর্ণ করবে ।
(৩) পরিচালনা পরিষদ সেন্টারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বহুমুখী পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক অনুমোদনের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট পেশ করবে ।
(৪) পরিচালনা পরিষদ কার্যনির্বাহী পরিষদের গৃহীত ও অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ।
(৫) পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ মনোনয়নের তারিখ হতে ০৩ (তিন) বছর হবে এবং পরপর সর্বোচ্চ দুইবার পরিচালক বা কোনো সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে ।
(৬) ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টারে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচালনা পরিষদের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন ।
৬. আর্থিক ব্যবস্থাপনা
(১) ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নিকট হতে অর্থ প্রাপ্তির চেষ্টা করা হবে ।
(২) পরিচালক সেন্টারের অনুকূলে থাকা ব্যাংক হিসাব পরিচালনা ও এতদৃসংক্রান্ত হিসাব দাখিল করবেন ।
(৩) যে কোনো আর্থিক ব্যয় ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের নিয়মাবলি প্রযোজ্য হবে ।
৭. অফিস ব্যবস্থাপনা
(১) পরিচালক ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টারের অফিস প্রধান হবেন ।
(২) অফিস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিম্নবর্ণিত জনবল থাকবে:
(ক) প্রশাসনিক কর্মকর্তা (১ জন)
(খ) ল্যাব টেকনিশিয়ান (১ জন)
(গ) কম্পিউটার অপারেটর (১ জন)
(ঘ) হিসাব সহকারী (১ জন)
(ঙ) অফিস সহায়ক (২ জন)
(চ) পরিচ্ছন্নতা কর্মী (১ জন)
(৩) জনবল নিয়োগ ও পদোন্নতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে তবে তাদের নিয়োগের শর্তাবলী ও কার্যাবলী কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত হবে ।
৮. অফিসের স্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার-এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে ।
৯. দায়বদ্ধতা
ন্যানোপ্রযুক্তির সুবিধাকে যথার্থভাবে প্রয়োগপূর্বক নিরাপদভাবে কি কি জনকল্যাণ সাধিত হয়েছে তার একটি বার্ষিক প্রতিবেদন কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট দাখিল করা হবে ।
১০. সংশোধনী
এই গঠনতন্ত্রের পরিমার্জন, পরিবর্তন, সংশোধন ও কোনো শব্দ বা বাক্যের ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা কার্যনির্বাহী পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকবে ।